News Title: সুস্থ থাকতে প্রতিদিন কখন ও কতক্ষণ হাঁটবেন?

সুস্থ থাকতে হলে প্রতিদিন হাঁটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সকালে বা বিকালে হাঁটলে শরীরে খুব ভালো ব্যায়াম হয় এবং ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের হয়ে যায় ও রোগ প্রতিরাধ ক্ষমতা বাড়ে।

তবে আধুনিক জীবনযাপনের ফলে এখন দৈনন্দিন শারীরিক কার্যক্রম হচ্ছে না বললেই চলে। যার ফলে শরীরে বাসা বাঁধছে বিভিন্ন অসুখ-বিসুখ।
যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, আথ্র্রাইটিস, ওবেসিটি বা স্থূলতা, মাংসপেশির শক্তি কমে যাওয়া, অষ্টিওপোরোসিস বা হাড়ের ভঙ্গুরতা ইত্যাদি।

সুস্থ থাকতে হলে হাঁটার বিকল্প নেই। তবে এখন প্রশ্ন হলো– কখন ও কতক্ষণ হাঁটবেন?

কখন ও কত সময় হাঁটবেন

প্রতিদিন কমপক্ষে ৪০-৪৫ মিনিট হাঁটুন। এ ছাড়া যদি হাঁটতে ভালো লাগে তবে হাঁটার সময়টা ১ ঘণ্টা পর্যন্তও হতে পারে। যারা বেশি হাঁটতে পারেন না, তারা ওই ৪০ মিনিট হাঁটার সময়ে ১০ মিনিটের বিরতি দিতে পারেন। পাঁচ দিন ৩০ মিনিট করে ১৫০ মিনিট হাঁটলেও আপনি সুস্থ থাকবেন।

তবে কখনই ৩০ মিনিটের কম হাঁটা উচিত হবে না। সকালে বা বিকালে হাঁটা শরীরের জন্য ভালো।

হাঁটার গতি কেমন হবে

হাঁটার সময় অনেকে বুঝতে পারেন না যে, হাঁটার গতি কেমন হবে। তবে হাঁটার জন্য তেমন নির্দিষ্ট কোনো গতি নেই। প্রথমে ধীরে ধীরে হাঁটা শুরু করার পর আস্তে আস্তে গতি বাড়াতে হবে। শরীরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যতটুকু পারা যায় গতি বাড়াতে হবে।

লেখক: বাত-ব্যথা, প্যারালাইসিস রোগে ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ, চেয়ারম্যান এবং চিফ কনসালট্যান্ট, ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল, ধানমণ্ডি, ঢাকা।


News Title: করোনা: এ সময় নিরাপদে ভ্রমণ করতে করণীয়

সরকারি ছুটি শেষ হওয়ার পর দেশের মানুষের জীবনযাত্রা অনেকটাই স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

খুলেছে সরকারি-বেসরকারি অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া বাস, ট্রেন, লঞ্চ ও বিমান চলাচল শুরু হয়েছে।

তবে এ সময় ভ্রমণ মোটেও নিরাপদ নয়। তবু জরুরি প্রয়োজনে ভ্রমণ করতে চাইলে মানতে হবে বাড়তি সতর্কতা।

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিরাপদে ভ্রমণের কিছু পরামর্শ দেয়া হয়েছে।


১. এ সময় ভ্রমণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিকল্প নেই। সংক্রমণ রোধে বাস, ট্রেন ও বিমান ভ্রমণে মানতে হবে সামাজিক দূরত্ব।

২. সঙ্গে থাকা ব্যাগ জীবাণুমুক্ত করতে হবে যানবাহন থেকে নেমেই।

৩. ব্যক্তিগত হ্যান্ড স্যানিটাইজার সঙ্গে রাখুন। বাসের আসন জীবাণুমুক্ত করার জন্য সঙ্গে রাখতে হবে জীবাণুনাশক স্প্রে।

৪. বাসের যে কোনো স্থান স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন। এ সময় গ্লাভস পরবেন।

৫. বিমান ও ট্রেনের শৌচাগার খুব বেশি প্রয়োজন না হলে ব্যবহার করবেন না।

৬. হাত দিয়ে মুখমণ্ডল স্পর্শ করবেন না ও মুখ থেকে মাস্ক খুলবেন না। অন্য যাত্রীদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন। চেষ্টা করুন জানালার পাশের আসনে বসার।

৭. বাইরের কেনা খাবার খাবেন না। বাসার তৈরি খাবার সঙ্গে রাখুন।


End of Today's News

করোনা: এ সময় নিরাপদে ভ্রমণ করতে করণীয়

সরকারি ছুটি শেষ হওয়ার পর দেশের মানুষের জীবনযাত্রা অনেকটাই স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

খুলেছে সরকারি-বেসরকারি অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া বাস, ট্রেন, লঞ্চ ও বিমান চলাচল শুরু হয়েছে।

তবে এ সময় ভ্রমণ মোটেও নিরাপদ নয়। তবু জরুরি প্রয়োজনে ভ্রমণ করতে চাইলে মানতে হবে বাড়তি সতর্কতা।

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিরাপদে ভ্রমণের কিছু পরামর্শ দেয়া হয়েছে।


১. এ সময় ভ্রমণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিকল্প নেই। সংক্রমণ রোধে বাস, ট্রেন ও বিমান ভ্রমণে মানতে হবে সামাজিক দূরত্ব।

২. সঙ্গে থাকা ব্যাগ জীবাণুমুক্ত করতে হবে যানবাহন থেকে নেমেই।

৩. ব্যক্তিগত হ্যান্ড স্যানিটাইজার সঙ্গে রাখুন। বাসের আসন জীবাণুমুক্ত করার জন্য সঙ্গে রাখতে হবে জীবাণুনাশক স্প্রে।

৪. বাসের যে কোনো স্থান স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন। এ সময় গ্লাভস পরবেন।

৫. বিমান ও ট্রেনের শৌচাগার খুব বেশি প্রয়োজন না হলে ব্যবহার করবেন না।

৬. হাত দিয়ে মুখমণ্ডল স্পর্শ করবেন না ও মুখ থেকে মাস্ক খুলবেন না। অন্য যাত্রীদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন। চেষ্টা করুন জানালার পাশের আসনে বসার।

৭. বাইরের কেনা খাবার খাবেন না। বাসার তৈরি খাবার সঙ্গে রাখুন।

সুস্থ থাকতে প্রতিদিন কখন ও কতক্ষণ হাঁটবেন?

সুস্থ থাকতে হলে প্রতিদিন হাঁটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সকালে বা বিকালে হাঁটলে শরীরে খুব ভালো ব্যায়াম হয় এবং ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের হয়ে যায় ও রোগ প্রতিরাধ ক্ষমতা বাড়ে।

তবে আধুনিক জীবনযাপনের ফলে এখন দৈনন্দিন শারীরিক কার্যক্রম হচ্ছে না বললেই চলে। যার ফলে শরীরে বাসা বাঁধছে বিভিন্ন অসুখ-বিসুখ।
যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, আথ্র্রাইটিস, ওবেসিটি বা স্থূলতা, মাংসপেশির শক্তি কমে যাওয়া, অষ্টিওপোরোসিস বা হাড়ের ভঙ্গুরতা ইত্যাদি।

সুস্থ থাকতে হলে হাঁটার বিকল্প নেই। তবে এখন প্রশ্ন হলো– কখন ও কতক্ষণ হাঁটবেন?

কখন ও কত সময় হাঁটবেন

প্রতিদিন কমপক্ষে ৪০-৪৫ মিনিট হাঁটুন। এ ছাড়া যদি হাঁটতে ভালো লাগে তবে হাঁটার সময়টা ১ ঘণ্টা পর্যন্তও হতে পারে। যারা বেশি হাঁটতে পারেন না, তারা ওই ৪০ মিনিট হাঁটার সময়ে ১০ মিনিটের বিরতি দিতে পারেন। পাঁচ দিন ৩০ মিনিট করে ১৫০ মিনিট হাঁটলেও আপনি সুস্থ থাকবেন।

তবে কখনই ৩০ মিনিটের কম হাঁটা উচিত হবে না। সকালে বা বিকালে হাঁটা শরীরের জন্য ভালো।

হাঁটার গতি কেমন হবে

হাঁটার সময় অনেকে বুঝতে পারেন না যে, হাঁটার গতি কেমন হবে। তবে হাঁটার জন্য তেমন নির্দিষ্ট কোনো গতি নেই। প্রথমে ধীরে ধীরে হাঁটা শুরু করার পর আস্তে আস্তে গতি বাড়াতে হবে। শরীরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যতটুকু পারা যায় গতি বাড়াতে হবে।

লেখক: বাত-ব্যথা, প্যারালাইসিস রোগে ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ, চেয়ারম্যান এবং চিফ কনসালট্যান্ট, ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল, ধানমণ্ডি, ঢাকা।

ভাইরাস জ্বর নাকি করোনার থাবা? বোঝার কৌশল

মহামারি করোনা ভাইরাসের তাণ্ডবে যেন ভেঙেচুরে যাচ্ছে আমাদের পুরো পৃথিবী। ইতোমধ্যেই এই মরণব্যাধির কারণে বদলে গেছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন। আগে হলে সর্দি, কাশি, হালকা জ্বরে গুরুত্ব দেয়ারও সময় ছিল না অনেকের। ‘ও এমনিতেই সেরে যাবে’- এমন একটা গা ছাড়া ভাব থাকতো এসব অসুখের ক্ষেত্রে। তবে এখন সেই চিত্র বদলে গেছে। সর্দি, কাশি কিংবা জ্বর তো বটেই, সামান্য গলা খুসখুস করলেও উদ্বিগ্ন হচ্ছেন সবাই। এর কারণও কারো অজানা নয়।

কিন্তু ঋতু পরিবর্তনের সময় ভাইরাস জ্বর দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। এই সময়ে জ্বর হলে তা সাধারণ ভাইরাস জ্বর নাকি করোনা ভাইরাস লক্ষণ- কী করে বুঝবেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের সংক্রমণ হলে হালকা থেকে মাঝারি জ্বরের সঙ্গে গা ম্যাজম্যাজ, একটু সর্দি ভাব, কখনো নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধের মতো উপসর্গ থাকে। কাশিও হতে পারে তবে তা এমন যাতে মনে হয় কফ তোলার জন্য কাশছে, কিন্তু কফ উঠছে না। এ অবস্থায় খুব একটা চিন্তার কিছু নেই। ঘরে বিশ্রামে থাকুন। গরম পানির ভাপ নিন। পর্যাপ্ত হালকা ও তরল খাবার খান। জ্বর বাড়লে প্যারাসিটামল খান। মাস্ক পরে বাড়ির অন্যদের থেকে দূরে থাকুন। কারণ ইনফ্লুয়েঞ্জার কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে সংক্রমণের ভয় থেকে যায়।

ইনফ্লুয়েঞ্জার জ্বর ও কষ্ট মোটামুটি ২-৩ দিন থাকে। তারপর কমতে শুরু করে। কিন্তু যদি তা না হয়, ৪-৫ দিন পরও জ্বর থাকে ও জ্বর বাড়তে শুরু করে, রোগী দুর্বল হয়ে পড়েন কিংবা ডায়রিয়া, সর্দি কমে গিয়ে শ্বাসকষ্ট বা কাশির মাত্রা বাড়তে থাকে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা করা উচিত।

সাধারণ ভাইরাস জ্বর কীভাবে বুঝবেন?

* খুব বেশি জ্বর নাও হতে পারে। হালকা গা গরম থেকেও শরীরে বাসা বাঁধতে পারে ভাইরাল ফ্লু।

* জ্বরের সঙ্গে মাথা যন্ত্রণা, দুর্বল লাগা, স্বাদে অরুচি এগুলো অন্যতম লক্ষণ।

* বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জ্বরের সঙ্গে গা-হাত-পায়ে ব্যথা অনুভব থাকে।

* অ্যালার্জির প্রবণতা থাকলে নাক দিয়ে কাঁচা পানি ঝরা, সর্দি-কাশি দেখা দিতে পারে।

তবে কি জ্বর হলেই করোনা পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো?

চিকিৎসকদের মতে, ইনফ্লুয়েঞ্জা হলে এমনিতেই শরীর দুর্বল হয়ে যায়। তার উপর গা ঘেঁষাঘেঁষি করে লাইনে দাঁড়িয়ে টেস্ট করালে সেখান থেকেই রোগ এসে যেতে পারে। সংক্রমণের প্রথম অবস্থায় রিপোর্টেরও আবার ফলস পজিটিভ, ফলস নেগেটিভ আছে। তাই একবার পরীক্ষা হলেই তা নিয়ে নিশ্চয়তার কিছু নেই। তাই জ্বর এক দিন দু’দিন থাকলেই তা নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তাছাড়া এমনিতেও কো-মর্বিডিটি না থাকলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে করোনা ভাইরাস এত হালকা ভাবে থাকে যে প্যারাসিটামল খেলে ও একটু বিশ্রামে থাকলেই ঠিক হয়ে যায়। কাজেই জ্বর এলেও প্রতিটি সিদ্ধান্ত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মতো নিন।

করণীয়

করোনা ভাইরাস ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে। তাই সাবধান না হলে এমনিতেই আক্রান্ত হতে হবে। কাজেই সতর্ক থাকুন। বাড়িতে কারও জ্বরজারি হলে, সে ইনফ্লুয়েঞ্জা হোক কি করোনা ভাইরাস, তাকে সবার থেকে আলাদা থাকার ব্যবস্থা করুন। রোগী ও পরিবারের সবাই ত্রিস্তরীয় মাস্ক পরুন। বারবার হাত ধুতে থাকুন। ইনফ্লুয়েঞ্জাও যথেষ্ট ছোঁয়াচে। যেকোনো একটি সংক্রমণ কিন্তু অন্য সংক্রমণকে ডেকে আনতে পারে। কাজেই সাবধানতার বিকল্প নেই।

তাই জ্বর হলেই দুশ্চিন্তা করবেন না। তাতে শরীর আরও দুর্বল হবে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দু-তিন দিনে সমস্যা কমে যাবে। কাজেই সাবধানে থাকুন। উপসর্গের গতি-প্রকৃতির দিকে নজর রাখুন ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মতো চলুন। বেশিরভাগ লক্ষণ যদি করোনার সঙ্গে মিলে যায় তখন পরীক্ষা করাতে পারেন।

স্ট্রবেরির ভিন্ন ৩ প্যাকে যত্ন নিন ত্বকের

ভিটামিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ স্ট্রবেরি এখন হাতের কাছেই পাওয়া যায়। রূপচর্চায় কাজে লাগাতে পারেন এই ফল। এতে থাকা উপাদান প্রাকৃতিকভাবে সুন্দর ও উজ্জ্বল রাখে ত্বক। একই সঙ্গে ব্রণ, বলিরেখা ও ত্বকের কালচে দাগ দূর করতেও এর জুড়ি নেই। জেনে নিন ত্বকের যত্নে স্ট্রবেরির ভিন্ন ৩ প্যাক সম্পর্কে।

স্ট্রবেরি ও কফি

কয়েকটি স্ট্রবেরি ব্লেন্ড করে নিন। পরিমাণ মতো কফি পাউডার মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে নিন। চাইলে সামান্য পানি মেশাতে পারেন। মিশ্রণটি ত্বকে ম্যাসাজ করুন। কয়েক মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকে নিয়ে আসবে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা। পাশাপাশি দূর করবে জমে থাকা মরা চামড়া।

স্ট্রবেরি ও কমলা

কয়েকটি কমলার কোয়া ও স্ট্রবেরি একসঙ্গে ব্লেন্ড করে নিন। মুখ ও গলার ত্বকে লাগিয়ে রাখুন প্যাকটি। শুকিয়ে গেলে সামান্য পানি ছিটিয়ে ঘষে ঘষে উঠিয়ে ফেলুন। এরপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ত্বকে ধুয়ে নিন। এই ফেস প্যাক ত্বকের পিএইচ লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখে। এছাড়া এই দুই ফলের অ্যাসিডিক উপাদান ত্বকের কালচে দাগ দূর করে।

স্ট্রবেরি ও মধু

কয়েকটি স্ট্রবেরি ব্লেন্ড করে মধু মিশিয়ে নিন। ত্বকে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন। এই মিশ্রণ ত্বকে নিয়ে আসবে কোমলতা। প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে এটি দূর করে ত্বকের রুক্ষতা। পাশাপাশি অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব দূর করতেও এর জুড়ি নেই।  

করোনার ঝুঁকি থেকে বাঁচতে এড়িয়ে চলুন এসব খাবার

বিশ্বব্যাপী ভয়াবহ আগ্রাসন চালাচ্ছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। এমন পরিস্থিতিতে এই মরণব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে বাড়াতে হবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। মহামারিতে রূপ নেওয়া এই ভাইরাসের কারণে এটি আগের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যদিও প্রতিদিনই আমরা এই ভাইরাস সম্পর্কে নতুন নতুন তথ্য জানতে পারছি, তবে এটি স্পষ্ট যে সব ধরনের জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সবার আগে শরীরকে প্রস্তুত করা জরুরি। শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর অন্যতম সেরা উপায় হলো প্রতিদিনের খাবারে বিভিন্ন ধরণের পুষ্টিকর খাবার অন্তর্ভুক্ত করা।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এমন খাবার খাওয়া যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতিকর খাবারগুলোর দিকেও মনোযোগ দেওয়া। সেই খাবারগুলো আমাদের শরীরের ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসের আক্রমণ বন্ধ করার ক্ষমতাকে দুর্বল করে। ক্ষুধা মেটানোর জন্য আমরা অনেকসময় চিনিযুক্ত এবং প্রসেসড পণ্য খাই যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে চাইলে এই খাবারগুলো এড়িয়ে চলুন-

কফি এবং অন্যান্য ক্যাফিনেটেড পানীয়

অনেকেই এককাপ গরম কফি দিয়ে দিন শুরু করতে পছন্দ করেন। যদিও এক বা দুই কাপ কফি কোনো ক্ষতি করতে পারে না, তবে সারাদিন ধরে একের পর এক কফির কাপ খালি করতে থাকলে তা আপনার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় সর্বনাশ ডেকে আনে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন উচ্চ মাত্রার কর্টিসল প্রকাশ করতে পারে যা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া পরিবর্তন করতে পারে। দিনে অতিরিক্ত কফি পান না করে বরং রাতে নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের প্রতি মনোযোগী হোন।

অ্যালকোহল

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে চাইলে অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকুন। যদিও এক গ্লাস অ্যালকোহল খুব বেশি ক্ষতি করতে পারে না, কিন্তু অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দিতে পারে। বেশ কয়েকটি গবেষণায় অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করার মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত মদ্যপান নিউমোনিয়া এবং শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

সোডা এবং অন্যান্য কার্বনেটেড পানীয়

শরীরের জন্য উপকারী কোনো পানীয় খুঁজলে সোডা এবং অন্যান্য কার্বনেটেড পানীয় এড়িয়ে চলুন। এই বেভারেজগুলো যদি শতভাগ আসল ফলের রস বলে দাবিও করে তবে জেনে রাখবেন, এগুলো আসলে অপ্রয়োজনীয় ক্যালোরিযুক্ত। এই জাতীয় পানীয়র সমস্যা হলো এতে ফাইবার থাকে না, তাই এগুলো পান করার পরে আপনি সত্যিই পরিপূর্ণ বোধ করেন না। এতে কেবল ক্যালোরিই থাকে না, এটি ওজন বৃদ্ধি এবং স্থূলত্বও বাড়াতেও সাহায্য করে। যেহেতু বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন ইতিমধ্যে স্থূলত্বকে একটি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করেছে, তাই সোডা এবং অন্যান্য মিষ্টিযুক্ত পানীয় গ্রহণে সতর্ক হোন।

ক্যান্ডি এবং অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত শর্করা

মিষ্টি কিছু খেতে মন চাইতেই পারে, বিশেষ করে মূল খাবার খাওয়া শেষে ডেজার্ট ধরনের খাবার খাওয়ার অভ্যাস অনেকের। কিন্তু সেই মিষ্টি খাবার যদি হয় অতিরিক্ত চিনিতে ঠাসা আর প্রক্রিয়াজাত তাহলে মুশকিল। বিভিন্ন স্বাদের ক্যান্ডি মূলত চিনি আর কৃত্রিম রঙে ভরা। এগুলো শরীরের ইনফ্লামেশন বা প্রদাহকে আরও বাড়িয়ে তোলে। শরীরে ইনফ্লামেশন বাড়তে থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা। মিষ্টি কিছু খেতে মন চাইলে আপনি মিষ্টি স্বাদের এক বাটি তাজা ফল খেতে পারেন।

ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, উইংস ফ্রাই এবং সমস্ত ভাজা খাবার

এই খাবারগুলো এতটাই লোভনীয় যে এর থেকে লোভ সামলে রাখা দায়। কিন্তু যতই সুস্বাদু হোক না কেন আসলে তা শরীরের জন্য ঝামেলা ছাড়া আর কিছুই নয়। এগুলোতে প্রচুর লবণ থাকে যা তরল ধারণ এবং উচ্চ রক্তচাপের দিকে পরিচালিত করতে পারে, উভয়ই প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়। সব রকম ভাজা খাবারে থাকে উচ্চ স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং গ্রিজ। যা অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম ধ্বংস করে দেয়। এটিরোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। এই খাবারগুলো ডায়াবেটিস এবং কার্ডিওভাসকুলার অবস্থার ঝুঁকিও বাড়িয়ে তোলে।

শরীরে বিভিন্ন রোগকে বাসা বাধতে সহায়তা করে ডায়াবেটিস

আপনি কি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত? উত্তর যদি হ্যাঁ হয় তবে এখন থেকে নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিতে হবে বাড়তি সতর্কতা। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যতিক্রম করা যাবে না। কারণ ডায়াবেটিস থেকে অন্যান্য শারীরিক সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস শনাক্ত হওয়ার সাথে সাথেই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের ধরণকে নির্দিষ্ট করে নিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণ করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে ডায়াবেটিসের মাত্রা যেন কোনোভাবে অতিরিক্ত বেড়ে না যায়।

ডায়াবেটিসের সমস্যাটি থেকে নার্ভের ক্ষয়জনিত সমস্যা তথা নিউরোপ্যাথিসহ অন্যান্য বেশ কিছু গুরুতর শারীরিক সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। যা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে দেয়। রক্তে বাড়তি চিনির মাত্রা মূলত এই সমস্যাগুলো তৈরি জন্য দায়ী। এই কারণে ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের খুব কড়াকড়ি নিয়মের মাঝে থেকে রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। আজকের ফিচার থেকে জানুন ডায়াবেটিস থেকে কোন শারীরিক সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে।

হৃদরোগের সমস্যা

ডায়াবেটিসের সাথে ব্লাড প্রেশার ও কোলেস্টেরলের সম্পর্ক রয়েছে। গবেষকেরা তাদের পরীক্ষা থেকে দেখছেন, উচ্চমাত্রার ক্ষতিকর কোলেস্টেরল ইনস্যুলিনের স্বাভাবিক গতিবিধিকে বাধাপ্রাপ্ত করে। যাদের ডায়াবেটিসের সমস্যা রয়েছে, তাদের মাঝে হৃদরোগ জনিত সমস্যাটিও তাই বেশি দেখা যায়। এছাড়া এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, অন্তত ৬০ শতাংশ ডায়াবেটিস রোগীর মৃত্যু হয় হার্ট অ্যাটাকের ফলে।

নার্ভজনিত সমস্যা

ডায়াবেটিস থেকে নার্ভের কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। যাকে বলা হয়ে থাকে নিউরোপ্যাথি (Neuropathy). এই সমস্যাটির দুইটি ধরণ রয়েছে। প্রথম ধরণটি হল পেরিফেরাল- যা পায়ের আঙুল, পা ও হাতে সমস্যা তৈরি করে। অন্যটি হল অটোনমিক- যা খাদ্য পরিপাক, পেটের সমস্যা, ব্লাডার, হৃদরোগ ও যৌন সমস্যা তৈরি করে। নিউরোপ্যাথির কিছু সাধারণ লক্ষণ হল দুর্বলতা, জ্বাপালোড়া করা, অবশভাব অনুভূত হওয়া, ইনফেকশনের সমস্যা দেখা দেওয়া ইত্যাদি।

কিডনিজনিত সমস্যা

ডায়াবটিসের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিডনি। কিডনির সমস্যাকে বলা হয়ে থাকে নেফ্রোপ্যাথি (Nephopathy). এ সমস্যায় কিডনির ফিল্টার অকার্যকর অথবা ক্ষতির সম্মুখীন হয়। যার ফলে মুত্রের সাথে প্রোটিন বের হয়ে যায়। লম্বা সময় এই সমস্যা চালু থাকার ফলে কিডনির সমস্যা দেখা দেয়। পরিসংখ্যান বলছে, ২০-৪০ শতাংশ ডায়াবেটিস রোগীর কিডনি ফেইল্যুরের সমস্যা দেখা দেয়।

অন্ধত্ব

পূর্ণবয়স্ক মানুষের ডায়াবেটিসের সমস্যা থেকে অন্ধত্ব দেখা দিতে পারে। এই সমস্যাটিকে বলা হচ্ছে রেটিনোপ্যাথি (Retinopathy). ডায়াবটিসের রেটিনার ফলে রক্তনালিকা ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং রক্ত স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হওয়ায় বাধার সম্মুখীন হয়। যার ফলে দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যা দেখা দেওয়া শুরু হয়।

হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাবে গ্রীষ্মের এই ফলগুলো

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতির মাঝেই এসে গেছে মধুমাস জ্যৈষ্ঠ। ভিন্ন স্বাদের বাহারি ফলের দেখা মিলে এই মৌসুমেই। এ দিকে, গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপে প্রাণ হাঁসফাঁস করতে থাকে। প্রাণ শীতল করতে ঠান্ডা কিছু খেতে মন চায়। কিন্তু সব ঠান্ডা খাবারই কি শরীর ও মন জুড়াতে সাহায্য করে? বেশিরভাগ ঠান্ডা পানীয়তে প্রচুর চিনি দেওয়া থাকে যা স্বাস্থ্যের পক্ষে ভীষণ ক্ষতিকর। তাই এই গরমে হাইড্রেটেড থাকার জন্য এবং কিছু স্বাস্থ্যকর এবং তাজা ফল খেতে পারেন।

এই গরমে সুস্থ থাকার জন্য হিট স্ট্রোক রোধ করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গ্রীষ্মের ফলমূল গরমের কারণে শরীরের নানা সমস্যার উপশম করে। এসব ফল আবহাওয়ার কঠোরতা থেকে বাঁচিয়ে আপনার শরীরকে পর্যাপ্ত পুষ্টি দেয়। জেনে নিন কোন ফলগুলো খাবেন-

আম

এই ফলটি ছাড়া গ্রীষ্মের কল্পনা করা প্রায় অসম্ভব। আম কেবল মিষ্টি স্বাদের জন্যই নয় বরং এর পুষ্টিকর বৈশিষ্ট্যের জন্যও পরিচিত। প্রোটিন, ভিটামিন এ, বি ৬, সি, আয়রন, ফোলেট, ম্যাগনেসিয়াম, রাইবোফ্লাভিন এবং ডায়েটি ফাইবার জাতীয় স্বাস্থ্য সমৃদ্ধকারী পুষ্টিতে ভরপুর এই ফল। আমে বিশটিরও বেশি ভিটামিন এবং খনিজ থাকে, যা একে সুপারফুড হিসেবে তৈরি করতে সহায়তা করে। ৩/৪ কাপ আম আপনার প্রতিদিনের ভিটামিন সি এর ৫০%, ভিটামিন এ এর ৮% এবং ভিটামিন বি ৬ এর ৮% সরবরাহ করে। আক্ষরিকভাবে আপনার তৃষ্ণা নিবারণের জন্য পাকা আম, আমের রস, আমের লাচ্ছির চেয়ে ভালো উপায় নেই। আম দিয়ে তৈরি করা যায় নানা স্বাদের শরবত, কুলফি, আইসক্রিম ইত্যাদি।

বেল

বেল একটি গ্রীষ্মকালীন ফল, যা শীতল বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। গরমের কারণে সৃষ্ট পেটের অসুখ এবং অন্যান্য হজমজনিত সমস্যা দূর করতে এই গ্রীষ্মকালীন ফলটি একটি দুর্দান্ত প্রতিকার। এছাড়া উডেন আপেল হিসাবে পরিচিত বেল ডায়েটরি ফাইবারের একটি দুর্দান্ত উৎস, যা প্রাকৃতিক রেচক হিসাবে কাজ করে এবং হজমে উন্নতি করতে সাহায্য করে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি দেয়। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

তরমুজ

তরমুজ ছাড়া গ্রীষ্মকাল উপভোগ্য হয় না। তরমুজ গ্রীষ্মের তাপের মাঝে শীতলতা ছড়ানোর একটি অন্যতম ফল, প্রাণ জুড়াতে যার বিকল্প নেই। রং, স্বাদ, গন্ধ তো বটেই, তরমুজ গ্রীষ্মের অনন্য ফল কারণ এর প্রায় নব্বই ভাগই পানি। যা সত্যিকার অর্থেই তৃপ্তি মেটানোর পাশাপাশি শরীরকে হাইড্রেট করে তোলে। লাইকোপিন, ভিটামিন এ, বি ৬ এবং সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস এবং অ্যামাইনো অ্যাসিড জাতীয় পুষ্টিতে ভরা এই ফল। গ্রীষ্মে নিয়মিত তরমুজ খেলে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগানোর পাশাপাশি প্রচণ্ড গরমে শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

কলা

কলা অবশ্য সারাবছরই পাওয়া যায়। তবে এর পুষ্টিকর বৈশিষ্ট্যগুলো প্রখর তাপকে হার মানাতে এবং শরীরে হাইড্রেশনের স্বাস্থ্যকর ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য কাজ করে। কলা গ্রীষ্মের পানীয় এবং শরবত বা স্মুদি তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে। কলা খেলে তা টিস্যুগুলো সঙ্কুচিত করে তোলে, যা আরও বেশি পানি শোষণে সহায়তা করে শরীরকে শীতল রাখে। এছাড়া শক্তি বাড়াতে এবং পেশী শক্তিশালী করতে সাহায্য করে কলা। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে। প্রোটিন, ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট, পটাসিয়াম এবং ভিটামিন বি ৬, সি দিয়ে ভরপুর কলা। তাই এই গরমে শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতে কলা খান নিয়মিত।

ফুটি

এটি গ্রীষ্মের আরেকটি তাজা ফল যা আপনার শরীরকে প্রচুর পরিমাণে হাইড্রেশন দেয়। এটি কাঁচা কিংবা জুস করে খাওয়া যায়। ফুটির শরবতও এই গরমে তরতাজা রাখতে সাহায্য করে। এটি কেবল স্বাদেই নয়, সুন্দর গঠন এবং আকর্ষণীয় গন্ধের জন্যও পরিচিত।

ভিটামিন এ, ডি, বি -৬, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম এবং ডায়েটি ফাইবারের মতো পুষ্টিতে ভরপুর হলো ফুটি। এটি কেবল হাইড্রেটিং নয়, কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা থেকে মুক্তি পেতেও সাহায্য করে। ফুটিতে উচ্চ ক্যারোটিনয়েডের উপস্থিতি ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে। এছাড়াও এতে ভিটামিন সি থাকার কারণে তা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

শিশুদের করোনার উপসর্গ দেখা দিলে করণীয়

মহামারী করোনাভাইরাসে বয়স্কদের পাশাপাশি আক্রান্ত হচ্ছে কোমলমতি শিশুরা। শিশুদের করোনার উপসর্গ দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে।

 

 

জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফের ‘কোভিড-১৯ ও টিকাদান: অভিভাবকদের যা জানা প্রয়োজন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে শিশুদের করোনার উপসর্গ দেখা দিলে কী করা উচিত তা তুলে ধরা হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্তানের গলাব্যথা, সর্দি অথবা জ্বরের উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছ থেকে ফোনে পরামর্শ নিন। যদি শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় বা অস্বাভাবিক অসুস্থ পড়ে তা হলে কাছাকাছি কোনো হাসপাতালে নিতে জরুরি নম্বরে ফোন দিন।

ইউনিসেফ বলছে, আক্রান্ত বেশিরভাগ শিশুর ক্ষেত্রেই তেমন কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি। তবে বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকাদের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা জরুরি।

ইউনিসেফ আরও জানায়, শিশুর মধ্যে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে ও আক্রান্ত হলে তাকে বাড়িতেই রাখুন। তবে প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ইউনিসেফের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শ্বাসতন্ত্রের অন্য সংক্রমণ যেমন ফ্লু দেখা দিলে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর পরামর্শ নিন, জনসমাগম স্থলে না যাওয়ার চেষ্টা করুন।

এ সময় শিশুদের বয়স্কদের সংস্পর্শ থেকে অথবা পরিবারে যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের কাছ থেকে দূরে রাখুন।

ইউনিসেফ বলছে, শিশুর জ্বর, সর্দি অথবা শ্বাসকষ্টের উপসর্গ না থাকলে করোনাভাইরাস পরীক্ষার কোনো প্রয়োজন নেই।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সকালের নাস্তায় যা খাবেন

মহামারী করোনাভাইরাসের এখনও কোনো টিকা বা প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। তাই এ ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো সবচেয়ে বেশি জরুরি।

তবে এখন প্রশ্ন হলো– শরীরে রোগ প্রতিরাধ ক্ষমতা কীভাবে বাড়াবেন। এমন কিছু খাবার রয়েছে, যা সকালের নাস্তায় খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালের নাস্তা হতে হবে পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ও খনিজে ঠাসা।

সকালের নাস্তায় যা খাবেন

১. সকালের নাস্তায় অনেকে বাড়িতে বানানো কেক ও সালাদ রাখেন পাতে। এই দুই খাবারেই অনেকটা মাখন বা তেলের পরিবর্তে মেশাতে পারেন পাকা কলা।

পুষ্টিবিদরা বলেন, এক কাপ মাখনে যেখানে ১৬২৮ ক্যালোরি ও ১১৬ গ্রাম স্যাচুরেটেড ফ্যাট রয়েছে, সেখানে এক কাপ পাকা কলায় রয়েছে ২০০ ক্যালোরি ও আধা গ্রামেরও কম স্যাচুরেটেড ফ্যাট। সঙ্গে রয়েছে উপকারী পটাশিয়াম, ভিটামিন বি ও ফাইবার।

২. চিনির বদলে মধু বা গুড়ের বাতাসা মেশান রান্নায়। চিনির কাজও হবে আর চিনির ক্ষতি থেকেও শরীরকে রাখতে পারবেন নিরাপদ।

৩. সাদা পাউরুটি না খেয়ে বাদামি রঙের ব্রেড খান। এতে ফাইবার ও পুষ্টিগুণ বেশি। আর অতিরিক্ত চর্বি জমবে না।

৪. শরীরে প্রোটিন বাড়াতে পাতে রাখুন চিকেন স্যুপ। দোকান থেকে চিকেন কিনে তা দিয়ে বাড়িতেই সব রকম সবজি দিয়ে এ খাবার তৈরি করতে পারেন, যা সকালের নাস্তায় খেতে পারেন।

৫. সকালের নাস্তায় খেতে পারেন সিদ্ধ ডিম। প্রোটিনসমৃদ্ধ এই খাবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে।

৬. খেতে পারেন ফলের রস। প্যাকেটজাত ফলের রসে প্রচুর কৃত্রিম চিনি ও লবণ মেশানো থাকে। তাই বাজার থেকে কেনা ফল দিয়ে তৈরি জুস বা ফল কেটেও খেতে পারেন। চিবিয়ে ফল খেলে তার ফাইবারও অনেক বেশি পাওয়া যায়।

৭. গ্রিন টিতে রয়েছে ফ্লেভোনয়েড নামক একটি উপাদান, যা আসলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি এমন একটি শক্তিশালী উপাদান, যা সব দিক থেকে শরীরকে চাঙ্গা রাখে। গ্রিন টি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
এ ছাড়া কেটেচিন নামেও একটি উপাদান থাকে এই চায়ে, যা ভিটামিন 'ই' ও 'সি'র থেকেও বেশি শক্তিশালী। এটি শরীরে প্রবেশ করে একাধিক উপকার করে।

তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা