অন্তঃসত্ত্বা ও গর্ভের সন্তানের করোনার ঝুঁকি কতটা?

সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখাতে একজন মা কতই না কষ্ট করেন। ৯ মাস ১০ দিন সন্তানকে গর্ভে রেখে নিজের সব সুখ বিসর্জন দিয়ে থাকেন। সব মায়ের প্রত্যাশা থাকে, তার নবজাতক যেন সুস্থভাবে পৃথিবীর আলো দেখে।

বর্তমান সময়ে মহামারী করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অন্তঃসত্ত্বা মায়েরাও আতঙ্কে রয়েছেন। তাদের গর্ভের সন্তান করোনা নিয়ে পৃথিবীতে আসেন কিনা সেই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে মায়েদের মধ্যে।

সম্প্রতি ব্রিটেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মায়ের গর্ভ থেকে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস নিয়ে এক শিশুর জন্ম হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, করোনা আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ নিয়ে সন্তান জন্মদানের আগেই ব্রিটেনে এক গর্ভবতীকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। কিন্তু তার টেস্টের রেজাল্ট আসার আগেই জন্ম নেয় এ শিশু। জন্মের পর পরই শিশুটিকেও টেস্ট করা হয়। রেজাল্ট আসে করোনা পজিটিভ।

তাই দেখা যাচ্ছে অন্তঃসত্ত্বা মা ও গর্ভের সন্তানের করোনার ঝুঁকি রয়েছে। তাই এ সময়ে মায়েদের অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

আসুন জেনে নিই অন্তঃসত্ত্বা মা ও সন্তানের ঝুঁকি কতটুকু এবং ঝুঁকি এড়াতে করণীয়-

অন্তঃসত্ত্বা মা ও সন্তানের করোনা ঝুঁকি

গর্ভাবস্থায় অন্তঃসত্ত্বা মায়ের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। তাই গর্ভাবস্থায় যে কোনো সময়ের চেয়ে ফ্লু বা অন্য কোনো সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। এই সময় মায়ের বুক ও পেটের মধ্যে ডায়াফ্রাম নামক পর্দাটি ওপরের দিকে উঠে যায়। খুব স্বাভাবিকভাবেই শ্বাসকষ্ট হয় গর্ভকালীন শেষ সময়ে। তাই সংক্রমণের জন্য সাধারণ মানুষের তুলনায় শ্বাসকষ্ট বেশি হতে পারে মায়েদের। গর্ভাবস্থায় কাশি–জ্বর দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপণ্ন হতে হবে।

আর শিশুর ক্ষেত্রেও করোনাভাইরাসের ঝুঁকি রয়েছে। ইনফ্লুয়েঞ্জা বা করোনাভাইরাস সংক্রমণের জন্য গর্ভপাত, শিশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া, অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেয়া, জন্মগত ত্রুটি হওয়া বা উচ্চ তাপমাত্রার জ্বরের জন্য গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতি হতে পারে। এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও রয়েছে। আর তাই মায়ের থেকে শিশুর করোনা হওয়ার ঝুঁকি এড়ানো যায় না।

সব সাবধানতা অবলম্বন করবেন

গর্ভাবস্থায় সব মায়ের বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয়। আর এখন যেহেতু করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে, তাই অন্য সময়ের চেয়ে আরও বেশি সতর্ক হতে হবে।

১. অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। তাই এ সময় ঘরে থাকুন ও জনসমাগম এড়িয়ে চলুন। আর চিকিৎসার প্রয়োজন হলে ফোনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ২. মার্কেট, মেলা, বিয়েবাড়ি ও গণপরিবহন এড়িয়ে চলুন।

৩. অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।

৪. এ সময় ভ্রমণে যাবেন না।

৫. ঘরবাড়ি ও ব্যবহৃত কাপড় পরিষ্কার রাখুন। আর সংক্রমণ এড়াতে বারবার সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে হাত ধুয়ে নিন।

৬. পশুপাখি বা কাঁচামাছ, মাংস ধরবেন না। আর ধরলেও দ্রুত সাবান–পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন।

৭. বিশেষ প্রয়োজনে বাইরে বের হলে মাস্ক ও সুরক্ষা পোশাক ব্যবহার করুন।

পরামর্শদাতা : গাইনি কনসালট্যান্ট, সেন্ট্রাল হাসপাতাল লিমিটেড। 

ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে এসব ফল বেশি বেশি খাবেন

মহামারিতে রূপ নেওয়া করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ঘরবন্দি থাকার ফলে আপনার জীবনযাপনে এসেছে আমূল পরিবর্তন। এতে স্বাভাবিকভাবেই বদলে গেছে খাদ্যাভ্যাসও। তাই বলে রুটিন ছাড়াই খাওয়া-দাওয়া একদমই উচিত নয়। ঘরবন্দি এই সময়টায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনোভাবেই অবহেলা করা চলবে না।

চিকিৎসকেরা বলছেন, সংকটপূর্ণ এই সময় নানা ধরনের ফল খাওয়া প্রয়োজন। তাতে যেকোনো ভাইরাস নামক শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আমাদের শরীর অনেক বেশি প্রস্তুত থাকতে পারবে।

তবে বিভিন্ন ধরনের ফলের মধ্যে চিকিৎসকরা মূলত লেবুজাতীয় ফল খাওয়ার ওপরই বেশি গুরুত্বারোপ করছেন। লেবুজাতীয় নানা ধরনের ফলে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি পাওয়া যায়।

আমাদের শরীরকে শক্তভাবে ধরে রাখা কোষগুলোর মধ্যে যোগাযোগকে মসৃণ রাখার ব্যাপারে এক ধরনের প্রোটিনের খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এই প্রোটিনের নাম ‘কোলাজেন’। আমাদের শরীরই এই প্রোটিন তৈরি করে। আর ভিটামিন-সি সেই কোলাজেন তৈরির প্রক্রিয়ায় কার্যত অনুঘটকের কাজ করে।

এ ক্ষেত্রে প্রায় সবধরনের লেবুজাতীয় ফলেই প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি পাওয়া যায়। পাতি লেবু, কাগজি লেবু, কমলা, বাতাবি লেবু ও মাল্টায় প্রচুর ভিটামিন-সি থাকে।

তাই ঘরবন্দি এই সময় বাড়ির খাওয়াদাওয়া বা অফিসে যেতে হলে টিফিনেও বিভিন্ন ধরনের লেবুজাতীয় ফলের এখন খুব প্রয়োজন। তাতে আমাদের শরীরে কোলাজেন তৈরির কাজটা সহজ হবে।

লেবু জাতীয় ফলের পাশাপাশি জরুরি হলো পেয়ারা খাওয়া। পেয়ারায় থাকে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন। সঙ্গে প্রয়োজন আপেল আর বেদানা। এই ফলগুলোতে লোহার সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে নানা ধরনের প্রয়োজনীয় ভিটামিন থাকে। এ জন্য সংকটপূর্ণ এই সময়ে নানা ধরনের ফল এখন নিয়মিতভাবে খাওয়া প্রয়োজন।

করোনার প্রধান উপসর্গ কোনটি? কখন পরীক্ষা করবেন

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। এর অন্যতম কারণ হলো অনেকে এর উপসর্গগুলো বুঝতে পারেন না। আর হাসপাতালে যেতে ও পরীক্ষা করতে সময়ক্ষেপণ করছেন।

তাই করোনা প্রতিরোধের জন্য এই রোগের উসর্গগুলো জানতে হবে ও সর্তক থাকতে হবে। কারণ এই রোগ অনেকের শরীরে প্রবেশের পর উপসর্গ দেখা দিচ্ছে আবার অনেকের ক্ষেত্রে তেমন কোনো উপসর্গ থাকছে না।

এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন ভারতের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সুবর্ণ গোস্বামী। তিনি জানান, এই ভাইরাসের প্রধান ও অন্যতম উপসর্গ হলো জ্বর। তবে সব ক্ষেত্রে জ্বর আসবে এমনও বলা যাবে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৮৮ শতাংশ ক্ষেত্রে জ্বর এলেও জ্বর আসছে না ১২ শতাংশের। সে ক্ষেত্রে কেবল শ্বাসকষ্ট বা কাশির উপসর্গ থাকবে।

আসুন জেনে নিই করোনাভাইরাসের উপসর্গ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়-

১.সর্দির সমস্যা হলে বুঝতে হবে কেমন সর্দি। নাক দিয়ে যদি পানি পড়ে ভয়ের কারণ নেই। তবে কফ নেই, কিন্তু সর্দির জন্য অস্বস্তি, গলা জ্বালা ও গলা ব্যথা হলে সর্তক হোন। আর হাঁচি থাকলেও ভয়ের কারণ নেই।

২. খুশখুশে ঘন ঘন শুকনো কাশি থাকলেও ভয়ের কারণ রয়েছে। দিনে দু’এক বার কাশলে তাকে স্বাভাবিক ধরে নেয়া যাবে। তবে এমন যদি হয় আপনি কাশি দিতে আছেন তবে সমস্যা। তখন দেখতে হবে শ্বাসকষ্ট বা জ্বর আসছে কি না। আর সর্দির জন্য গলা ব্যথা বা কাশি হলেও নিজের জিনিসপত্র আলাদা করে আলাদা থাকুন।

৩. বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, গলা ব্যথা-কাশির উপসর্গ দিয়ে শুরু হলেও এই ধরনের ভাইরাসের কারণে তা দ্রুত বাড়ে ও প্রবল জ্বর ডেকে আনে,সঙ্গে শ্বাসকষ্টও থাকে। অনেক সময় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত করে। আবার হঠাৎই শুরু হয়ে যাচ্ছে ডায়রিয়া। তবে সাধারণ ডায়রিয়া কি না তা বুঝতে পরের দু’দিন খেয়াল রাখুন।

৪. করোনার আরেকটি উপসর্গ হলো সাত-আট দিনের মাথায় প্রবল শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।   তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা 

 

করোনা : ঘরবন্দি সন্তানের বিষন্নতা দূর করতে যা করণীয়

দাবানলের মতো বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আমরা একপ্রকার বাধ্য হয়েই মেনে নিচ্ছি ঘরবন্দি পরিস্থিতি। আর এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা প্রাণোচ্ছ্বল শিশু-কিশোরদের। স্কুল, টিউশন বন্ধ। সাঁতার-গান-নাচও বন্ধ। বিকালে খেলাধুলো বা পার্কে যাওয়ারও উপায় নেই। ২৪ ঘণ্টা চার দেওয়ালে বন্দি তারা। এমতাবস্থায় সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া অবশ্য কর্তব্য।
ঘরবন্দি সময়টায় অভিভাবকরা যা করবেন:
* শিশুদের বুঝিয়ে বলুন ‘হোম কোয়ারেন্টিন’ কী আর এই পরিস্থিতিতে এর যৌক্তিকতাইবা কী। তাহলে চার দেওয়ালের মধ্যে আটকে থাকার গ্রহণযোগ্যতা অনেকটাই বাড়বে তাদের মধ্যে।
* ৩ থেকে ৫ বছর বয়সী একটি শিশুর মধ্যে কিন্তু মৃত্যু সম্পর্কে একটা অস্বচ্ছ ধারণা তৈরি হয়ে যায়। তাই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ও তার সংখ্যা নিয়ে তাদের সামনে আলোচনা না করাই বাঞ্ছনীয়। এতে অপরিণত মস্তিষ্কে মৃত্যুভয় বাসা বাঁধতে পারে।
* বাড়ির সবাই যেমন সংসারের সমস্ত কাজ ভাগ করে করছেন, আপনার সন্তানটিকেও তার বয়স ও ক্ষমতা অনুযায়ী কাজ ভাগ করে দিন। সকলের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করাটা হয়তো তার কাছে উপভোগ্যই হবে।
* বাড়ির কাজের পাশাপাশি ছবি আঁকা, বাগান করা, গল্পের বই পড়ার মতো কোনো শখ— যেটা ঘরে বসেই করা যায়, এমন কিছুতে বেশি করে উৎসাহিত করুন।
* বছরের আর পাঁচটা দিনের চেয়ে অভিভাবকদের হাতে কিন্তু একটু বেশিই সময় আছে সন্তানকে দেওয়ার মতো। তাই এই সময় চেষ্টা করবেন, একসঙ্গে বসে কিছু খেলতে বা মজার কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে। এটা তাদের কাছে অনেক বেশি উপভোগ্য হবে।
* শিশুর অতিরিক্ত কার্টুন বা মুঠোফোনে গেমসের নেশা কাটিয়ে ফেলার সুযোগ কিন্তু এখনই। অনেকটা সময় হাতে পাচ্ছে যখন, তখন তার মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। পাঠ্যবইয়ের বাইরেও নানা বই পড়ার স্বভাব পরবর্তীতে তার বেশ উপকারে আসবে।
* এই সময়টা শিশুকে ‘হ্যান্ড হাইজিন’ (ভালোভাবে সাবান পানি বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোয়া) আর ‘কফ এটিকেট’ (হাঁচি-কাশির সময় টিস্যু ব্যবহার) শেখানোরও এক আদর্শ সময়। সেটা আয়ত্ত করে ফেলতে পারলে করোনা ভাইরাসকে প্রতিরোধ করার সঙ্গে সঙ্গে আপনার সন্তান সারাজীবন ধরেই কিন্তু অন্য অনেক রোগের আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবে।

বাড়ি জীবাণুমুক্ত রাখতে যা করবেন

 

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সারা দেশে সতর্কতা জারি করে ১০ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, সবাই করোনার সংক্রমণ এড়াতে মুখে মাস্ক পরছেন ও হাত পরিষ্কার রাখার জন্য স্যানিটাইজার বা সাবান ব্যবহার করছেন। তবে বাড়িও জীবাণুমুক্ত করা জরুরি।
ঘরে কোনো ব্যক্তি অসুস্থ থাকলে এবং তার কাশি ও হাঁচিজনিত সমস্যা থাকলে অন্যরা তার দ্বারা সংক্রামিত হতে পারেন। কাশি ও হাঁচি দেয়ার সময় যদি তিনি মুখ না ঢাকেন, তবে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা দ্বিগুণ হয়ে যায়।
তাই ঘর জীবাণুমুক্ত করা জরুরি। আসুন জেনে নিই যেভাবে ঘর জীবাণুমুক্ত করবেন-
১. ঘরে জীবাণুমুক্ত করতে ফিনাইল এবং লিকুইড ব্লিচ (সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট) ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়া কিছুটা ব্লিচে পরিমাণ মতো পানি দিয়ে দুই থেকে চার মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর গ্লাভস পরে যে জায়গাটি পরিষ্কার করতে চান, সেখানে এটি ছড়িয়ে দিন। ১৫ মিনিট পর কাপড়ের সাহায্যে জায়গাটি পরিষ্কার করুন।
২. রান্নাঘরের থালা বাসন গরম পানি ব্যবহার করে পরিষ্কার করতে হবে। এ ছাড়া রান্নার সময় ব্যবহৃত কাপড় গরম পানিতে পরিষ্কার করা উচিত।
৩. বাড়িতে অসুস্থ ব্যক্তির কাপড় আলাদা করে ধোবেন। কাপড় ধুয়ে ডেটল পানিতে ভিজিয়ে তার পর তা শুকাতে পারেন।
৪. ঘরের পরিষ্কার করার আগে মুখ, হাত ও মাথা ঢেকে নিন। পরিষ্কার করার সময় আপনার চোখ, নাক ও মুখে স্পর্শ করা এড়িয়ে চলুন। কাজ শেষে সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে ফেলুন। সূত্র : বোল্ড স্কাই

যে পানীয়তে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে!

যাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে করোনায়। এ সময় পুষ্টিবিদরাও সবাইকে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছেন।
চিকিৎসকদের মতে, যাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে করোনায়। এ সময় পুষ্টিবিদরাও সবাইকে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছেন। যাতে করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। 
ইমিউন বা প্রতিরক্ষাতন্ত্র কী?
এটি বিভিন্ন জৈবিক কাঠামো সহযোগে গঠিত জীবদেহের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। যা জীবদেহকে আক্রমণকারী রোগব্যাধির বিরুদ্ধে কাজ করে থাকে। এটি বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস থেকে শরীরকে প্রাকৃতিকভাবে রক্ষা করে। জানেন কি? প্রাকৃতিক ভেষজ উপাদানের মাধ্যমে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা উন্নত করা সম্ভব। 
পুষ্টিবিদ নিম্মি আগরওয়াল সম্প্রতি একটি পানীয়র ভিডিও শেয়ার করেছেন তার ইনস্টাগ্রামে। তিনি জানিয়েছেন, প্রতিদিন এই পানীয়টি পান করলেই শরীরের ইমিউন সিস্টেম বুস্ট হবে অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। এবার তবে জেনে নিন পানীয়টির রেসিপি-
উপকরণ: এক টুকরো কাঁচা হলুদ, এক টুকরো আদা, এক চিমটি দারুচিনি গুঁড়া ও এক কাপ পানি।
প্রণালী: সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে ফুটিয়ে নিন। এরপর হালকা গরম থাকা অবস্থাতেই চায়ের মতো পান করুন। দিনে এক বা দুইবার এটি পান করুন।
আগরওয়ালের মতে, এই পানীয়তে যেসব উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে প্রত্যেকটিই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টপূর্ণ। এটি স্বাস্থ্যের সর্বাত্মক উন্নতি ঘটায়।
আদা
অতীতের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, আদা হজমে সহায়তা করে। এতে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সেই সঙ্গে এটি বিপাকক্রিয়া বাড়ায়। এটি ঠাণ্ডা এবং ফ্লু এর বিরুদ্ধে লড়াই করে। আদায় থাকা ডায়োফরেটিক শরীরের ঘামের মাধ্যমে সব ধরনের ক্ষতিকর পদার্থ বের করে দেয়।
হলুদ
বলা হয় এক চিমটি হলুদ শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত বিভিন্ন সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াই করে। এতে রয়েছে ফাইটো-ডেরাইভেটিভ নামক কার্কিউমিন যা ফ্লু নিরাময়ের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। এতে থাকা বিভিন্ন উপাদান কাশি থেকেও দ্রুত মুক্তি দেয়।
দারুচিনি
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দারুচিনি অত্যন্ত কার্যকরী একটি ভেষজ উপাদান। ঠাণ্ডাজনিত রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে দারুচিনি।

করোনায় ডেঙ্গুর কথা ভুলে যাওয়া যাবে না

করোনাভাইরাসের কারণে জ্বর হলেই অনেকে ভয় পেয়ে যাচ্ছেন। অনেকেই মনে করছেন জ্বর হলেই বুঝি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু আমাদের আরেকটি বিষয় মনে রাখতে হবে, এখন ডেঙ্গুর মৌসুমও চলে এসেছে। করোনাভাইরাসের কারণে ডেঙ্গুর কথা ভুলে যাওয়া যাবে না বলে সতর্ক করেছেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে আইইডিসিআরে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে আইইডিসিআর পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এ সতর্কতার কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে যেসব ব্যবস্থা নিতে বলেছি, সেগুলো নিতে হবে। লার্ভা যেন জমা না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। বাড়ির আশেপাশে পরিষ্কার রাখতে হবে।’
এ দিন তিনি আরও বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে এক জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ পাওয়া গেছে। তার বয়স আনুমানিক ২০ বছর। যে চার জন করোনা মুক্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। এমনকি করোনা মুক্ত চার জনের মধ্যে বাকি দুই জনের বয়স ৮০ ও ৬০ বছর। এর মধ্য দিয়ে বয়স্কদের মধ্যে যে ভয় ছিল, সেটি আর থাকার কথা নয়।

করোনাভাইরাস: প্রবীণদের নিরাপদ রাখতে করণীয়

করোনাভাইরাসে তরুণদের চেয়ে প্রবীণদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। তাই বাড়ির প্রবীণ নাগরিকদের প্রতি সবচেয়ে বেশি যত্ন নিতে হবে।
চিকিৎসকরা বলছেন, করোনার সংক্রমণের এই সময়ে সবচেয়ে বেশি সতর্ক হতে হবে প্রবীণ নাগরিকদের। কারণ কম বয়সীদের তুলনায় প্রবীণ নাগরিকরাই করোনাভাইরাসের সংক্রমণের শিকার হচ্ছেন বেশি।
দেশে করোনার সতর্কতা জারি করে ১০ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
অনেকের ঘরেই প্রবীণ সদস্য রয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে যারা ডায়াবেটিস, হাঁপানি, হৃদরোগ ও কিডনির অসুখসহ নানাবিধ রোগে ভুগছেন, তাদের করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি। কারণ তাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অন্যদের চেয়ে কম।
করোনা থেকে প্রবীণদের নিরাপদে রাখতে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাস। আসুন জেনে নিই বাড়ির প্রবীণদের নিরাপদে রাখতে কী করবেন-
১. প্রবীণদের প্রতি খুবই যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। তাদের বাড়ির বাইরে যেতে না দেয়াই ভালো। আর যদি কোনো জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যেতেই হয়, তবে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।
২. যেসব প্রবীণ নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস, হাঁপানি, হৃদরোগ ও কিডনির অসুখসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন, তাদের নিয়ম মেনে ওষুধ খাওয়াতে হবে। এ ছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে।
৩. অতিরিক্ত মসলা ও তেলজাতীয় খাবার প্রবীণদের খাওয়া উচিত নয়। এতে হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া তাদের খাবার প্লেট, গ্লাস আলাদা করে সেগুলো জীবাণুমুক্ত করতে হবে।
৪. প্রবীণদের সুস্থ রাখতে দিনে ৩-৪ লিটার পানি পান করতে হবে। শরীরে পানির ঘাটতি না থাকলে প্রস্রাব ও মলত্যাগের অসুবিধা থাকবে না। এ ছাড়া শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কর্মক্ষম ও সক্রিয় থাকবে।
৫. যেহেতু প্রবীণদেরই সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, তাই বাইরের লোকজন ও আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে তাদের দূরে রাখাই ভালো

করোনা সম্পর্কে এখনো আমরা যা জানি না

এরই মধ্যে নানা মাধ্যমে এই ভাইরাস নিয়ে ছড়িয়ে আছে নানা খবর ও গুজব। তবু, কতটুকু জানি আমরা করোনা বা কোভিড-১৯ সম্পর্কে?
বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসে কাঁপছে সারা পৃথিবী। প্রতিনিয়ত বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। প্রতিষেধক আবিষ্কারের জন্য রাত-দিন খেটে যাচ্ছেন বাঘা বাঘা চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। এরই মধ্যে নানা মাধ্যমে এই ভাইরাস নিয়ে ছড়িয়ে আছে নানা খবর ও গুজব।
তবু, কতটুকু জানি আমরা করোনা বা কোভিড-১৯ সম্পর্কে? সেই আলাপ হাজির করা হলো বিবিসির সূত্র ধরে।
আক্রান্তের সংখ্যা কত?
করোনা ঘিরে এটি সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি। ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ। কিন্তু এটি শুধুই আংশিক তথ্য। কেননা, অনেক দেশে অনেকেই রয়ে গেছেন টেস্টের বাইরে।
আবার এমন অনেকেই আছেন, যারা আক্রান্ত হলেও ভাইরাসটির কোনো লক্ষণ তাদের মধ্যে দেখা না যাওয়ায় বা তারা অসুস্থতা অনুভব না করায় করাননি টেস্ট।
নতুন একটি এন্টিবডি টেস্ট উদ্ভাবন করার পরই শুধু গবেষকদের পক্ষে বোঝা সহজ হবে, কে কে এই ভাইরাসে আক্রান্ত। শুধু তখনই জানা যাবে, করোনা ভাইরাস ঠিক কতটুকু বা কত সহজে ছড়াচ্ছে।
কতটুকু প্রাণঘাতী?
আক্রান্তের সংখ্যা সঠিকভাবে জানার আগে যথাযথ মৃত্যুহার চিহ্নিত করা সম্ভব নয়। এই মুহূর্তে ধারণা করা হয়ে, এই ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার প্রায় ১ শতাংশ। তবে উপসর্গবিহীন আক্রান্তের সংখ্যা যদি বেশি হয়, সেক্ষেত্রে মৃত্যুহার আরও কম হবে।
উপসর্গের পূর্ণ বিকাশ
জ্বর আর শুষ্ক কাশিই করোনা ভাইরাসের প্রধান উপসর্গ। এছাড়া কিছু কিছু ক্ষেত্রে গলা ব্যথা, মাথা ব্যথা ও ডায়েরিয়ার কথাও জানা গেছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, কোনো কোনো রোগীর একইসঙ্গে সর্দি ও হাঁচির মতো হালকা উপসর্গও পাওয়া গেছে।
গবেষকদের আশঙ্কা, অনেক রোগীই হয়তো জানেনই না তিনি ভাইরাসটি বহন করছেন।
শিশুদের খেলা থেকে...
করোনা ভাইরাসে শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে। যদিও তাদের মধ্যে হালকা উপসর্গই বেশি দেখা যায় এবং অন্য বয়সীদের তুলনায় করোনায় শিশু মৃত্যুর হার তুলনামূলক যথেষ্ট কম।
তবে শিশুরা সাধারণত রোগ জীবাণু বেশি ছড়ায়। কেননা, তারা খেলাধুলা করে, নানা ধরনের মানুষের সঙ্গে মেশে। তবে তারা ঠিক কী মাত্রায় করোনা ছড়ায়, গবেষকরা সেটি নিশ্চিত নন।
উৎসের খোঁজ
গত বছরের শেষ দিকে চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়েছে ভাইরাসটি। ধারণা করা হয়, স্থানীয় এক অ্যানিমেল মার্কেট থেকেই ছড়িয়েছে এটি।

ঝুঁকি এড়াতে কোয়ারেন্টিনে? সঙ্গী করুন রোদকে

প্রাণঘাতী করোনার থাকা থেকে বাঁচার সর্বোত্তম উপায় যথাসম্ভব সচেতন থাকা। বাড়িতে সবার থেকে আলাদা থাকার মাধ্যমেই নিজের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সবাইকেও মহামারিতে রূপ নেওয়া এই ভাইরাস থেকে নিরাপদে রাখা সম্ভব। কিন্তু নিজ বাসায় ও ঘরে দিনের পর দিন কাটানোর ফলে দূরে থাকা হবে রোদের আলোর কাছ থেকেও। অথচ সুস্থতার জন্য রোদের আলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাভাবিকভাবেই নিজের ঘরে টানা দীর্ঘ সময়ের জন্য থাকা হলে রোদের সংস্পর্শে যাওয়া হবে খুব কম। দীর্ঘদিনের জন্য এই নিয়ম বজায় থাকলে শরীরে ভিটামিন ডি’র ঘাটতি দেখা দেবে। আমরা যখন রোদের আলোতে থাকি, তখন প্রাকৃতিকভাবে শরীরে ভিটামিন-ডি উৎপাদন হয়। এজন্য ভিটামিন-ডি কে অনেক সময় ‘সানশাইন ভিটামিন’ হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়। এই ভিটামিন-ডি শরীরের ক্যালসিয়াম শোষণের ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে। যা হাড়ের জন্য আবশ্যিক এক পুষ্টি উপাদান।

রোদের আলো কেন প্রয়োজন?

দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার থেকেই তো পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন-ডি পাওয়া যায়, তবে আলাদাভাবে রোদের আলোর প্রয়োজন কি?

উত্তর হল, খাদ্য উপাদান থেকে ভিটামিন-ডি পাওয়া গেলেও তা আমাদের শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত নয়। এর সঙ্গে রোদের পরিমিত আলোও প্রয়োজন। মূলত এজন্য সাম্প্রতিককালে ভিটামিন-ডি’র অভাবজনিত সমস্যা বেড়ে গেছে অনেক বেশি।

এ দিকে, বেশকিছু গবেষণার ফলে দেখা গেছে- শুধু হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য নয়, সার্বিকভাবে সুস্বাস্থ্যের জন্য রোদের আলো ও ভিটামিন-ডি জরুরি। এছাড়া বড় দুইটি গবেষণাও উঠে এসেছে একই বিষয়। তাতে দেখা গেছে, ভিটামিন-ডি’র অভাবের সঙ্গে হৃদরোগ ও ক্যানসারের সম্ভাবনা জড়িত থাকে। আর খাদ্য উপাদান থেকে প্রাপ্ত ভিটামন-ডি’র চাইতে রোদের আলো থেকে প্রাপ্ত ভিটামিন-ডি’র উপকারিতা বেশি কার্যকর।

কোয়ারেন্টিনের মাঝে কীভাবে রোদের সংস্পর্শে থাকা যাবে?

সঙ্গরোধে কোয়ারেন্টিনে থাকাকালীন রোদের কাছাকাছি থাকতে চাইলে সকালের নরম রোদটাকে বেছে নিতে হবে। চেষ্টা করতে হবে জানালার কাছে ও বারান্দায় সময় কাটানোর জন্য, যেখানে রোদের আলো সহজেই পাওয়া সম্ভব। আর ছাদে যাওয়ার সুযোগ থাকলে তো কোনো সমস্যাই নেই।

অনেকের বাসাতেই রোদের আলো এসে পৌঁছায় না। সেক্ষেত্রে একদিন পরপর বাসার ছাদে গিয়ে আধা ঘণ্টা সময় কাটানোর চেষ্টা করতে হবে। তবে ছাদে যাওয়ার জন্য যেহেতু বাসার বাইরে বের হতে হবে, সেক্ষেত্রে মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস পরতে হবে এবং বাসায় ফিরে দ্রুত জামা পরিবর্তন করে গোসল করে নিতে হবে।

যেভাবে ব্যবহার করবেন পিপিই

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবার পর থেকে আমরা নতুন করে পার্সোনাল প্রোটেকশন ইকুইপমেন্টের (পিপিই) সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি। শুধুমাত্র করোনা রোগীর অথবা রোগের উপসর্গ যার আছে, তার সংস্পর্শে আসার ঠিক আগ মুহূর্তে এই পিপিইর পুরো সেট (গ্লাভস, গাউন, মাস্ক, গগলস ইত্যাদি) পরতে হবে। ব্যবহারের পরপরই এটি বিশেষ ডিসপোজাল বিনে ফেলে দিতে হবে। প্রতিটি সেট পিপিই একবার ব্যবহার করার জন্য।

একজন রোগীর কাছে যদি দুইবার যান, তবে সেক্ষেত্রে দুই সেট পিপিই ব্যবহার করতে হবে। পিপিই পরে এদিক-সেদিক ঘোরাফেরা করা যাবে না, তাহলে পিপিইর মাধ্যমেই ভাইরাসের বিস্তার ঘটবে নিশ্চিন্তে!

সাধারণভাবে ফুল পিপিই গায়ে জড়িয়ে অফিসে যাওয়া-আসা করা মেডিকেল পিপিইর উদ্দেশ্য নয়। একটি মাস্ক বা গ্লাভস দুইবার ব্যবহার করাও বারণ। সাধারণ গার্মেন্টসের কাপড় দিয়ে বানানো পিপিইও যথার্থ পিপিই নয়।

পিপিইর কোনো অংশ কখন পরতে হবে, তার জন্য প্রশিক্ষণও দরকার। না জেনে-বুঝে পিপিইর ব্যবহার বিপদ ডেকে আনে। শনাক্ত রোগী বা উপসর্গ আছে- এমন কেউ আশেপাশে না থাকলে হাত ধোয়া ও দূরত্ব বজায় রাখাই যথেষ্ট।

পার্সোনাল প্রোটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি:

# পিপিই কখনোই হাসপাতালের বাইরে নেয়া যাবে না।

# পিপিই দিয়ে শরীরের সব অংশ ঢেকে রাখতে হবে।

# একজন ডাক্তার ডিউটি করার সময় অন্যদের নজর রাখা উচিত যেন অসতর্কতায় কোনো লিকেজ তৈরি না হয়।

# দুইজন একত্রে পিপিই পরবেন। এক্ষেত্রে একজন অপরজনের উপর নজর রাখতে পারবেন।

# করোনা আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসা ডাক্তারকে খুবই সতর্কভাবে সাধারণ রোগীর কাছে যেতে হবে নয়তো সংক্রমিত হওয়ার ভয় থাকে।

# পিপিই খোলার সময় খুব সাবধানে খুলে সেটি ঢাকনা দেয়া নির্দিষ্ট বিনে রাখুন।

# পিপিই খোলার সঙ্গে সঙ্গে গোসল করে নতুন কাপড় পরুন।

যেভাবে ব্যবহার করবেন পিপিই

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবার পর থেকে আমরা নতুন করে পার্সোনাল প্রোটেকশন ইকুইপমেন্টের (পিপিই) সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি। শুধুমাত্র করোনা রোগীর অথবা রোগের উপসর্গ যার আছে, তার সংস্পর্শে আসার ঠিক আগ মুহূর্তে এই পিপিইর পুরো সেট (গ্লাভস, গাউন, মাস্ক, গগলস ইত্যাদি) পরতে হবে। ব্যবহারের পরপরই এটি বিশেষ ডিসপোজাল বিনে ফেলে দিতে হবে। প্রতিটি সেট পিপিই একবার ব্যবহার করার জন্য।

একজন রোগীর কাছে যদি দুইবার যান, তবে সেক্ষেত্রে দুই সেট পিপিই ব্যবহার করতে হবে। পিপিই পরে এদিক-সেদিক ঘোরাফেরা করা যাবে না, তাহলে পিপিইর মাধ্যমেই ভাইরাসের বিস্তার ঘটবে নিশ্চিন্তে!

সাধারণভাবে ফুল পিপিই গায়ে জড়িয়ে অফিসে যাওয়া-আসা করা মেডিকেল পিপিইর উদ্দেশ্য নয়। একটি মাস্ক বা গ্লাভস দুইবার ব্যবহার করাও বারণ। সাধারণ গার্মেন্টসের কাপড় দিয়ে বানানো পিপিইও যথার্থ পিপিই নয়।

পিপিইর কোনো অংশ কখন পরতে হবে, তার জন্য প্রশিক্ষণও দরকার। না জেনে-বুঝে পিপিইর ব্যবহার বিপদ ডেকে আনে। শনাক্ত রোগী বা উপসর্গ আছে- এমন কেউ আশেপাশে না থাকলে হাত ধোয়া ও দূরত্ব বজায় রাখাই যথেষ্ট।

পার্সোনাল প্রোটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি:

# পিপিই কখনোই হাসপাতালের বাইরে নেয়া যাবে না।

# পিপিই দিয়ে শরীরের সব অংশ ঢেকে রাখতে হবে।

# একজন ডাক্তার ডিউটি করার সময় অন্যদের নজর রাখা উচিত যেন অসতর্কতায় কোনো লিকেজ তৈরি না হয়।

# দুইজন একত্রে পিপিই পরবেন। এক্ষেত্রে একজন অপরজনের উপর নজর রাখতে পারবেন।

# করোনা আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসা ডাক্তারকে খুবই সতর্কভাবে সাধারণ রোগীর কাছে যেতে হবে নয়তো সংক্রমিত হওয়ার ভয় থাকে।

# পিপিই খোলার সময় খুব সাবধানে খুলে সেটি ঢাকনা দেয়া নির্দিষ্ট বিনে রাখুন।

# পিপিই খোলার সঙ্গে সঙ্গে গোসল করে নতুন কাপড় পরুন।