গর্ভাবস্থায় নারী ও শিশুর যত্ন

নারীর জীবনে গর্ভাবস্থা অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। গর্ভাবস্থায় মায়ের খেয়াল         রাখাটা অনেক বেশি জরুরী। কারন একজন সুস্থ সবল মায়ের উপরই নিশ্চিত করে একটি সুস্থ শিশুর জন্ম। এ সময় ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার গ্রহন করা উচিত। যাতে করে গর্ভের শিশু সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে। এ সময় মায়ের জন্য দরকার মিনারেল, কারবোহাইড্রেটের মত ৬ টি উপাদানের। একটি সুস্থ শিশু জন্মদানের জন্য  একজন মায়ের শরীরে এই উপাদান গুলো সঠিক পরিমানে থাকা অপরিহার্য। ভিটামিনযুক্ত যে কোন ফল যেমনঃআম,কলা,পেয়ারা,লেবু,চালতা,আমলকি ইত্যাদি নিয়মিত মাকে খেতে হবে। এছাড়াও আয়রন,ক্যালসিয়াম এবং ফলিক এসিড যুক্ত খাবার এ সময় মাকে নিশ্চিত করতে হবে।

এ সময় গর্ভবতী মায়ের উচিত ঢিলেঢালা পোশাক পরা, বাম দিকে কাত হয়ে শোয়া এবং পা উচুতে রেখে বিশ্রাম নেয়া। এছাড়া ধীরগতির প্রাতঃভ্রমণ এসময় মনে প্রশান্তি এনে দিতে পারে। রক্তের গ্রুপ মিলিয়ে রক্তদাতা জোগাড় করে রাখা আবশ্যক।গর্ভধারণের ৪ মাসের মধ্যে অবশ্যই এবং ৭ মাসের পর থেকে মাসে ২ বার চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। এছাড়া ধনুষ্টংকার প্রতিরোধে মা ও শিশুর অকাল মৃত্যু প্রতিরোধে টিটেনাস ভ্যাক্সিন দিয়ে রাখা আবশ্যক। এই সময় একজন মাকে ভারী জিনিস তুলতে দেয়া যাবে না।স্বামীর সঙ্গে পরিবারের অন্য সদস্যদের ও সহানুভূতিশীল হতে হবে এ সময় নতুন মায়ের প্রতি।তলপেটে অস্বাভাবিক ব্যথা,মুখ অথবা আঙ্গুল হঠাত ফুলে যাওয়া,প্রস্রাব কম হওয়া অথবা প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হওয়া,গর্ভের বাচ্চা নড়াচড়ায় পরিবর্তন অনুভব করা এ সব লক্ষণের যে কোন একটি দেখা যাওয়ার সাথে সাথে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

জন্মের পর নবজাতককে কাপড় দিয়ে ভালো করে মিড়িয়ে রাখা উচিত।তবে গরমের সময় হালকা সুতির কাপড় পরিয়ে রাখাই উচিত যাচে করে শরীরে ঘাম না হয়।অনেক সময় ঘামের কারনে নবজাতকের ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। জন্মের পর টানা ছয়মাস শিশুকে শুধু বুকের দুধ খাওয়াতে হবে।আর কিছুই খাওয়ানো উচিত না। এমনকি পানিও না। এই সময়ের মধ্যে শিশুকে ফিডার বা বোতলে দুধ খাওয়ার অভ্যাস একদমই করা যাবে না।এই অভ্যাস হলে শিশু আর বুকের দুধ খেতে চাইবে না।মায়ের সাথে সাথে বাচ্চার ওজন ঠিকঠাক আছে কিনা দেখতে হবে।জন্মের সময় একটি সুস্থ বাচ্চার যে ওজন থাকে ছয় মাস পর তা বেড়ে গিয়ে দ্বিগুণ হয়।এক বা দেড় বছর বয়সে তা বেড়ে গিয়ে তিনগুন হয়।এছাড়াও শিশুর টিকাগুলো অবশ্যই সময় মত দেয়া উচিত।



Comments




Write a new comment:




//