নাক ডাকা হতে পারে একটি ঘাতকব্যাধি

এপনিয়া- গ্রিক শব্দটির অর্থ শ্বাসহীনতা অর্থাৎ স্লিপ এপনিয়া বলতে বুঝায় ঘুমের ভেতর শ্বাস বন্ধ হওয়া। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, ঘুমের মধ্যে যদি ১০ সেকেন্ড বা তার অধিক সময় নিঃশ্বাস সম্পূর্ণ বা আংশিক বন্ধ হয়ে যায় এবং সে কারণে রোগীর শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ৩ শতাংশের বেশি নেমে যায়, তাকেই স্লিপ এপনিয়া বলে এবং ঠিক তখনি শ্বাসনালী দিয়ে বাতাস আদান প্রদান করতে ফ্যারিংসের উপর যে কোনো কারণে চাপ সৃষ্টি হলেই নাক ডাকে।

 

মূলত নাক ডাকে অন্য অসুখের কারণে। স্লিপ এপনিয়া- তিন ধরনের হয়ে থাকে,

 

১. নাক ও গলায় যে কোনো বাধা জনিত অবস্থায় (অবসট্রাকটিভ প্রি এপনিয়া-), ২. মস্তিষ্কের ক্ষেন্দ্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের ত্রুটিগত কারণে ( সেন্ট্রাল স্লিপ এপনিয়া ) ৩. মিশ্র ধরনের এপনিয়া-

 

এই তিন প্রকারের মধ্যে বাধা জনিত এপনিয়া- ৯০% বেলায় শ্বাসহীনতা হয়ে থাকে এবং নাক ডেকে থাকে। তবে মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রিণহীন অবস্থায় যদি এপনিয়া দেখা দেয় এবং চিকিত্সা না করানো হলে আস্তে আস্তে এই শ্বাসহীনতা একমিনিট বা তারও বেশি স্থায়ী হতে পারে বা কখনো সারা রাতে শত শত বারের জন্য হতে পারে এবং পর্যায়ক্রমে যে কোন মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়।

 

সাধারণভাবে যে যে কারণে নাক ডাকেঃ-

 

নাকের পার্টিশনের হাড় বাঁকা থাকলে, নাকে পলিপ বা কোনো টিউমার থাকলে, অ্যালার্জি বা নাক বন্ধ থাকলেও নাক ডাকে। গলার বিভিন্ন অসুখেও নাক ডাকে। (টনসিল, বড় জিভ, লম্বা আলজিভ, ছোট চোয়ালের হাড়, তালুতে প্যারালাইসিস, সিস্ট, পলিপ ইত্যাদি। এছাড়াও অতিরিক্ত মেদ, মদ্যপান, ধূমপান, উচ্চরক্তচাপ, মাদকাসক্তি, থাইরয়েডের অসুখ, স্নায়ুঘটিত রোগ, হার্ট বা ফুসফুসের রোগ ইত্যাদি অসুখ জনিত কারণেই নাক ডাকে 



Comments




Write a new comment:




//